সহনশীলতার পতন হলে বাংলাদেশ

সহনশীলতার পতন হলে খুব অচিরেই বাংলাদেশ আবার স্বাধীনতা থেকে অনেক দূরে সরে যাবে। একটা শ্রেণীর উত্থান হবে যারা শাসকের জুতো চাটবে। এরপর শাহবাগে বিচার চাই স্লোগান দিয়ে জড়ো হবে অন্যকোন দেশের এজেন্ডাধারী কতগুলো দালাল। কিছু উগ্র মৌলবাদীর উত্থান হবে। তারা বলবে, “জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করো, জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করো, দেশের নাম রাখো বাংলাস্তান!” পাহাড়ের সশস্ত্র দলগুলো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। এক সময় একত্রিত কন্ঠে বিশ্বজিৎ, আবু সাঈদ, ফেলানী আর তনু হত্যার বিচার কেউ চাইবে নাহ। মাত্রাতিরিক্ত নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেম আর উগ্রবাদী চেতনা ঘৃণার রাজনীতিকেই শক্তিশালী করবে।

বিশৃঙ্খলা দমনে শাসক প্রথমে বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিবে। এরপর জনপ্রিয়তা রক্ষায় ব্যর্থ শাসক ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরাচারে পরিনত হবে। জনবিচ্ছিন্ন স্বৈরাচার ক্ষমতায় থাকতে, তৃতীয় কোন দেশের স্বার্থ রক্ষা করে দেশ চালাবে। তৃতীয় শক্তিরা দেশের কলকাঠি নাড়বে। এক সময় আবার স্লোগান উঠবে “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক!” প্রতিবাদীদের লাশের সারি দ্বিগুণ হবে, এক স্বৈরাচারের পতনে নতুন স্বৈরাচার আসবে। পুরনো স্বৈরাচারদের থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন স্বৈরাচাররা আরও কঠোর হবে। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা কখনোই আসবে নাহ। রাজনীতির মাত্রাতিরিক্ত সাম্প্রদায়িকীকরণ কখনোই মানুষকে সঠিক স্বাধীনতা দিবে নাহ, শুধু পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের ন্যায় ঘৃণার রাজনীতিরই উত্থান হবে। সহনশীলতার পতন হলে স্বাধীনতাও অক্ষুন্ন থাকবে নাহ।

Leave a Reply